যে বইগুলো আপনার জীবন বদলে দিতে পারে!

বইয়ের কোন তুলনা হয় না। বিশ্বের সফল মানুষদের সাফল্যের পেছনে বই-এর ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যারা পড়তে ভালোবাসি, তাদের জন্য আজ আমি আলোচনা করবো এমন কিছু বই নিয়ে যে গুলো সত্যিয়েই জীবন বদলানোর ক্ষমতা রাখে। স্কুল জীবনে আমাদের অনেক ইচ্ছে থাকে কিন্তু আমরা যত বড় হই সেই ইচ্ছে গুলো হার মানতে থাকে বাস্তবতার কাছে। আজ আমি আলোচনা করবো এমন কিছু বই নিয়ে যে গুলো সেই সব হেরে যাওয়া ইচ্ছে গুলোকে আবার জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। একটা তাগিদ অনুভব করাবে মানসিক ও বাহ্যিক জগতে পরিবর্তন এনে দিতে। তবে আমি এটিও খেয়াল রেখেছি যেন এই বইগুলো পড়ে আপনি মজা পান। চলুন আর দেরি না করে তা হলে জেনে নেওয়া যাক।

(1) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের দাবী উপন্যাস :-

কালজয়ী কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম সেরা উপন্যাস হল পথের দাবী। এই উপন্যাসটি ১৯২৬ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়ে ছিল। ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ বিপ্লবী সব্যসাচীর কাহিনী নিয়ে এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। এই বইটি প্রথমে ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। সারা দেশ জুড়ে এই নিষিদ্ধ করণ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছিল। আইনসভাতে সুভাষচন্দ্র বসু ও হরেন্দ্রনাথ চৌধুরী প্রশ্ন তোলে ছিলেন কেন এই বই নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৭৭ সালে পথের দাবী উপন্যাস নিয়ে একটি চলচ্চিত্রায়িত হয়। পরিচালক ছিলেন পীযুষ বোস এবং অভিনয় করে ছিলেন উত্তম কুমার। এই বইটি পড়ে আপনি আত্মিক উন্নতি এবং চরিত্র গঠন সমদ্ধে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

(2) জোনাথন সুইফটের গালিভারস ট্রাভেল :-

গালিভারস ট্রাভেল বইটি ১৭২৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৭৩৫ সালে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয়। বইটি প্রকাশের পরপরই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ১৭২৬ সালে জনগে সুইফটকে লেখা একটি চিঠিতে জোনাথন সুইফট বলেছিলেন —” গালিভারস ট্রাভেল সব স্থানেই পঠিত হচ্ছে।” গালিভারস ট্রাভেল জোনাথন সুইফটের সব থেকে বিখ্যাত রচনা। বেঞ্জামিন মোট এই উপন্যাসটির প্রকাশক ছিলেন। ছোট্ট লিলি পুটদের দেশে গালিভার নামের একজন মানুষকে নিয়ে এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। মজাদার সব কাহিনী নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটি আপনাকে শিখাবে কি ভাবে সব জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।

(3) চার্লস ডিকেন্সের অন্যতম সেরা উপন্যাস ‘ অলিভার টুইস্ট’ :-

ইংরেজ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের সেরা উপন্যাস হল ‘ অলিভার টুইস্ট’। অলিভারের জন্মের পরপরই তার মা মারা যান, বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন। মার মৃত্যুর পর তার নাম ও বংশ পরিচয় হারিয়ে গেলো। এরপর শিশু অলিভার স্থান পেল এক এতিমখানায়। সে খানে তাকে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হত। এক সময় সে দীর্ঘ সাতদিন পায়ে হেঁটে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে লন্ডন শহরে পৌছয়। সেখানে সে একটি দুষ্টু তরুনের পাল্লায় পড়ে পকেটমার ও চোরদের আড্ডায় যোগ দেয়। বিজলী বরণ সেন এই উপন্যাসকে কেন্দ্র করে একটি সিনেমাও তৈরি করেছিলেন। অলিভারের জীবনের দুঃখ থেকে জীবন সমদ্ধে অনেক কিছু শিখতে পারবেন আপনি।

(4) সামুয়েল রিচার্ডের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ক্লারিসা হারলো’ :-

ইংরেজ ঔপন্যাসিক সামুয়েল রিচার্ডের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ক্লারিসা হারলো’। এই উপন্যাসটি ১৭৪৭ সালে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল। এটিকে বিশ্বসাহিত্যের সেরা প্রেমের গল্পের বই হিসেবে ধরা হয়। এই উপন্যাসের কাহিনী চিঠির সাহায্যে বলা হয়েছে। নায়িকা ক্লারিসা তার বন্ধু মিস হো কে ও আর একটি প্রধান চরিত্র রবার্ট লাতলেস তার বন্ধু জন বেলফোর্ডকে পত্র লিখেন। এই পত্রগুলির মধ্যে কাহিনী পরিস্ফুট। সৎবংশের মেয়ে ক্লারিসাকে অসচ্চরিত্র শৌখিন যুবক লাতলেস বিবাহ করতে চায়। এই নিয়েই উপন্যাসটি তৈরি হয়েছে। এই উপন্যাস আপনাকে জীবনের সব সমস্যার সমাধান কি ভাবে করতে হয় তা শিখাবে।

(5) অক্ষয়কুমার মৈত্রের সম্পাদিত গৌড়লেখমালা :-

অক্ষয়কুমার মৈত্রের সম্পাদিত ঐতিহাসিক গ্রন্থ হলো গৌড়লেখমালা। রাজসাহী বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির উদ্যোগে ও প্রচেষ্টায় গংড়ের ইতিহাস সংক্রান্ত যে সকল শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়েছিল, এই বইতে সেগুলির ব্যাখ্যা ও বিবরণ প্রদত্ত হয়েছে। পাল রাজাদের সময়ের কয়েকখানি লিপির প্রতিচিত্রও এই বইতে আছে।