ভালোবাসা
ভালবাসা ধীরে হলে টেকসই হয়। মানসম্মত ভালোবাসা সৃষ্টির পূর্ব শর্ত হচ্ছে কোন না কোন একটা সীমানার মধ্যে উভয়ের বসবাস। একই এলাকায় বসবাস বা একই অফিসে বা একই কলেজ- ভার্সিটিতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে সমাজ করতে করতে উভয়ের জানা-শুনা, অনেক ক্ষেত্রে মিল, মনের টান, ধীরে ধীরে ঘনিষ্টতা । প্রথম প্রথম আকারে ইঙ্গিতে পরে এক সময় প্রকাশ্যে বের হয়ে আসে। ঠিক কবে শুরু হয়েছে সেটা বের করা সম্ভব না। এটাই হচ্ছে অতি উত্তম ভালোবাসা। উন্নত জাতের ভালোবাসা।
.
ভালোবাসা বলে কয়ে হয় না এটা উপরে বর্ণিত অর্থে ঠিক। তাই বলে যদি শুনেন যে, তানজিলা জানত না যে উজ্জ্বল খ্রিস্টান, তাহলে উভয়ের গালে থাপ্পড় দিতে হবে। আমি কেন দেখামাত্র পাগল হয়ে যাব? কোন কারন নেই। সমানে সমানে বা নিদেন পক্ষে সামান্য উঁচু নিচুতে সম্পর্ক করা চলে। অনেক ছেলেরা চেষ্টা করে উপরের দিকে। এটা ঠিক না। পরে ভুগে। সামাজিক আর্থিক ধর্মীয় – সব বিষয়ে প্রায় সমান সমান অবস্থানের মধ্যে সম্পর্ক হলেই কেবল সেটা সুখের হবে, টিকসইও হবে।
.
অতি নিম্ন মানের ভালোবাসা হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে সৃষ্ট ভালোবাসা যেখানে উভয়ের মধ্যে প্রচুর অসত্য বিদ্যমান।
.
এক তরফা ভালবাসা কোন ভালবাসা নয়। নিছক বোকামি। গ্রহণযোগ্যও নয়। সেটা একটা খারাপ কাজের মধ্যে পড়ে। তবে প্রথম প্রথম গোপনে গোপনে ব্যাপারটা এক তরফা থাকতেই পারে। যখন বুঝা গেল যে, অন্য পক্ষের আগ্রহ নেই তখন আর সেই টানটা মনের মধ্যে লালন করা ঠিক না।
.
সম্পর্ক ছয় মাস বা ছয় বছর হলেও যদি গড়মিল দেখা দেয় তবে কোন ভাবেই টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা ঠিক না। একদম বোকামি। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না – এই কথা বলে আটকাবার চেষ্টা করাও বোকামি। প্রকৃত অবস্থা হল যে, বাঁচতে হয়।
.
ব্রেক আপের অনেক কারন থাকে। এর মধ্যে সন্দেহ সবচে’ ফালতু সবচে’ বাজে কারন। একদমই ক্ষতিকর। সন্দেহ দেখা দিলে ধীর শান্ত ভাবে সরাসরি কথা বলে পরিস্কার করে নিতে হয়।
.
মিথ্য কথা অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের ক্ষতি করে। মিথ্যে কখনোই প্রশ্রয় দেয়া উচিত নয়। যে মানুষ মিথ্যে কথা বলে সে মানুষই না। আর একটা মজার বিষয় হল যে, কেউ মিথ্যে বলছে কিনা তা বুঝা যায়। একটু খেয়াল করলেই বুঝা যায়। মিথ্যে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
.
সব বন্ধুদের নিকট জনের ভালোবাসা আরও গাড় হোক। দুনিয়ার সমস্ত প্রাণীকূলের মধ্যে বিদ্যমান ভালোবাসা টিকে থাকুক।