পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের নাম ফেসবুক। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর প্রাই প্রতিটা দেশে এর জনপ্রিয়তা অনেক অনেক বেশী। ফেসবুকের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারির কাছে কোন প্রতিষ্ঠান, পন্য বা সেবার প্রচারণা করে দেয়াকেই ফেসবুক মার্কেটিং করে। এটি আপনি নিজে বা কোন ফেসবুক মার্কেটারের মাধ্যমেও করতে পারেন। সহজ অর্থে ফেসবুকে যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তাকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলে। যে কোন ধরণের বিজ্ঞাপন ই ফেসবুকে টাকার মাধ্যমে দেয়া যায়। এ ধরণের বিজ্ঞাপন সাধারণত আপনার ফেসবুক নিউজফিডে বিভিন্ন পন্যের স্পন্সরড পোষ্ট আসে এবং আপনার ফেসবুক এর ডান পাশে বিভিন্ন পন্যের ছবি বা অফার আসে আর এগুলকেই ফেসবুক বিজ্ঞাপন বলে।

ফেসবুক মার্কেটিং কি?

পৃথিবীর সবছেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হল ফেসবুক। বর্তমানে পৃথীবতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে ফেসবুক ব্যবহার হয়না।ফেসবুকের সাহায্যে এর ব্যবহারকারির কাছে কোন প্রতিষ্ঠান, পন্য বা সেবার প্রচারণা করে দেয়াকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলা হয়। সহজ অর্থে বলা যায় ফেসবুকে যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তাই ফেসবুক মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার কয়েকটি কৌশল।

ফেসবুক মার্কেটিং কেন করবেন?

বর্তমান বিশ্বে সক্রিয় ফেসবুক ইউজারের সংখ্যা ১.৮৬ বিলিয়ন যারা মাসে একবার ব্যবহার করে। প্রতিদিন ইউজ করে প্রায় ১.২৩ বিলিয়ন। মোবাইলে ফেসবুক ইউজ করে এমন ইউজারের সংখ্যা ১.৭৪ বিলিয়ন । ফেসবুকে ১৬ মিলিয়ন লোকাল বিজনেস পেজ তৈরি করা হয়েছে।

১৮-২৪ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর মধ্য ৫০% ব্যবহারকারী ঘুম থেকে উঠেই ফেসবু ব্যবহার করে বা বলা যায় ফেসবুকে এসেই তাদের ঘুম ভাঙ্গে। এক প্রতিবেদনে বলা হয় ফেসবুক ব্যবহার কারি প্রতি বছর ১৭% হারে বাড়ে এবং এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

তাই ফেসবুক এর মাধ্যমে বহু লোকের কাছে সহযেই মার্কেটিং করতে পারেন যা অন্য কোন মাধ্যমে সম্ভব নয়।তাই দ্রুততার সাথে টার্গেটেট লোকের কাছে আপনার পন্য বা সেবার মার্কেটিং করার জন্য ফেসবুকের কোন বিকল্প নেই।

ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

আমরা এতক্ষণ ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। এবার আমরা কিভাবে মার্কেটিং করতে পারব এ বিষয়ে আলোচনা করবো।

ফেসবুক মার্কেটিং ২ ভাগে করা যায়।যথা- 

১। পেইড ছাড়া বা স্বতন্ত্র মার্কেটিং।

২। পেইড মার্কেটিং।

১।পেইড ছাড়া বা স্বতন্ত্র মার্কেটিং – আপনি যখন নিজে নিজেই ফেসবুকে মার্কেটিং শুরু করবেন তখন তাকে স্বতন্ত্র মার্কেটিং বলে। এধরণের মার্কেটিং এ আপনি আপনার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেই করতে পারবেন । ডট বাংলা এবং ডট বিডি ( .bd ) ডোমেইন কি ? কি ভাবে কিনবেন ? জেনে নিন।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ আপনি যদি নিজে মার্কেটিং করতে চান তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টটি হতে হবে ষ্ট্যাণ্ডার্ড।সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষ অপরিচিত কাওকেই সহজে বিশ্বাস করতে চায় না ।

 যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে মানুষ কোন কারনেই তার কোন কথা বা তার কাছ থেকে কিছুই শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করবে না। আপনার নিজের এই পরিচিতি বাড়াতে হলে আপনাকে কিছু কৌশল অবশ্যই এপ্লাই করতে হবে।

এ জন্য আপনাকে নিয়মিত একটিভ থাকতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল বা ভিডিও শেয়ার করতে হবে। এতে করে ফেইস বুক ব্যবহারকারীদের সাথে আপনার একটা যোগাযোগ তৈরী হবে।

এভাবে নিয়মিত যোগাযোগ পোস্ট কমেন্ট এর মাধ্যমে আপনি সবার বিশ্বাস যোগ্য হয়ে উঠতে পারবেন। স্বতন্ত্র মার্কেটিং অর্থাৎ নিজে নিজে মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে ফেসবুকে যাবতীয় ইনফরমেশন দিয়ে ও সুন্দর একটি পিকচার দিয়ে ভাল মানের ফেসবুক প্রোফাইল তৈরী করতে হবে।

একটি ভালো মানের অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনার অ্যাকাউন্টটি সাজানো গোছানো হতে হবে। চেষ্টা করুন নিজেকে স্পেশাল করতে তাহলেই সহজে সবার কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারবেন।

ফ্রেন্ড যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। আপনি এমন কোন ফ্রেন্ড কে এড করবেন না যে নিজেও একজন মার্কেটার, তাহলে দেখা যাবে যে আপনি যে মার্কেটিং করছেন তা কোন কাজেই আসছে না।

আপনি যে বিষয়ে মার্কেটিং করবেন সেই বিষয় সম্পর্কে ভালো মন্দ লেখার চেষ্টা করুন এতে করে আপনার একটা ভালো প্রোফাইল তৈরি হবে।

নিজেকে এ বিষয়ে দক্ষ প্রকাশ করার চেষ্টা করুন তাতে করে মানুষ আপনার কাছে সাহায্য এমনিতে চাইবে এবং আপনার মার্কেটিং এর সময় ভালো সাপোর্ট পাবেন। সবার প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করুন এতে করে আপনার স্বচ্ছতা তৈরি হবে।

যে কোন বিষয়ে প্রচারনা করার জন্য আপনাকে কৌশলী হতে হবে এবং মার্কেটিং করতে হবে। সরাসরি মার্কেটিং করা থেকে বিরত থাকুন এতে করে আপনার প্রতি তাদের ভালো মনোভাব তৈরি হবে। বিভিন্ন গ্রুপ বা আলচনাতেও আপনার মার্কেটিং করুন কৌশলের সাহায্য।
গ্রুপ খুলে এ বিষয়ে আলোচনা করুন, নিজের গ্রুপকে আলচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৈরি করুন এতে করে আপনি এখানেও আপনার মার্কেটিং করেতে পারবেন। বিভিন্ন গ্রুপ বা আলচনাতে ও আপনার মার্কেটিং করুন কৌশলের সাহায্য। এলেক্সার রেংকিং কি ? এলেক্সার রেংকিং নিয়ে বিস্তারিত টিপস।

২।পেইড মার্কেটিং-  পেইড মার্কেটিং আপনি নিজে বা বিভিন্ন মার্কেটারের সাহায্য করতে পারেন। পেইড মার্কেটিং একটি অনেক বড় মার্কেটিং স্টার্টেজি , এখানে আপনার মার্কেটিং করে সফল হওয়ার জন্য অনেক বিষয় সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে।

তাছাড়া আমাদের দেশে ডলার সিস্টেমের ঝামেলার কারনেও পেইড মার্কেটিং করা সম্ভব হয় না। তাই যদি আপনার মাস্টার কার্ড না থাকে আর এ বিষয়ে বেশী এক্সপার্ট না হন তবে ফেসবুক মার্কেটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন।

নিম্মোক্ত বিষয় সমূহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়েই আপনাকে ফেসবুক মার্কেটিং করতে হবে। 

১) লিড সংগ্রহঃ- ফেসবুকে লাইক বৃদ্ধি না করে লিড বৃদ্ধি করতে হবে। টার্গেটেট ক্লাইন্ট চিহ্নিত করে এদেরকে পেজে নিয়ে আনাকে লিড সংগ্রহ বলে।

২) লিড পরিচযাঃ- পেজে যখন লিড তৈরি হলো তাদের জন্য সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে তাদেরকে পেইজ এ এনে উপযুক্ত পন্য বা সেবা সম্পর্কে ধারনা দেয়াই হল লিড নার্সিং বা লিড পরিচযা।

৩) সেলস ফানেলঃ- সম্ভাব্য লিডগুলোকে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিভিন্ন উপায়ে কালেক্ট করে, নিজের কন্ট্রোলে কোন জায়গাতে স্টোর করতে হয়।

তারপর সেগুলোকে নার্সিং করতে হয়।এবার যখন নিজের প্রোডাক্টকে তাদের কাছে বিক্রির জন্য উপস্থাপন করা হয় ।এ পুরো প্রক্রিয়াটাকে প্লান মাফিক সাজানোকেই সেলস ফানেল বলে।

৪) কনটেন্ট ডেভেলপঃ-  কনটেন্ট বলতে আর্টিকেল, কোন লিখার লিংক, গ্রাফিক, ভিডিও সবকিছুকে কনটেন্ট বলে। কনটেন্ট ডেভেলপের ক্ষেত্রে লিড সংগ্রহ, লিড নার্সিং, সেলস ফানেল, প্রোডাক্ট সেল করা বিষয়টি মাথাতে রেখেই পরিকল্পনা করতে হবে।

৫) সম্ভাব্য কাস্টমারের আচরণ বুঝাঃ- সম্ভাব্য কাস্টমারের বয়স, সেক্স, তাদের কেনার ক্ষমতা, কেনার অভ্যাস, তাদের আচরণ বুঝতে হবে, সেই অনুযায়ি কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে। সম্ভাব্য কাস্টমারদের ডাটা কালেক্ট করা এবং তাদের আচরণটা অ্যানালাইস করা জানতে হবে।

৬) নিউজ ফিড অ্যালগরিদমঃ- ফেসবুকে কার ওয়্যালে কোন পোস্ট দেখাবে এটা একটা অ্যালগারিদম মেইনটেইন করে চলে। এ অ্যালগারিদমের কারনেই ফ্রেন্ড লিস্টের সবার পোস্ট আপনি দেখেননা, আপনার পোস্টও সবাই দেখেনা। এনিউজ ফিড অ্যালগরিদম বুঝেই কাজ করতে হবে।

৭) সঠিক অডিয়েন্স টার্গেট করাঃ- সঠিক অডিয়েন্স খুজে বের করে শুধুমাত্র তাদের কাছেই মার্কেটিং করেন। সঠিক অডিয়েন্স কারা সেটা বুঝার জন্য অনেক টুলস রয়েছে এগুলোর সাহায্য নিয়ে মার্কেটিং করতে হবে। SSL কি ? SSL কেন উপকারী ? এটি যে ভাবে কাজ করে।

৯) রিমার্কেটিং টেকনিকঃ- ফেসবুক পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কোন প্রোমোশন যদি একই ব্যক্তির কাছে বার বার নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে প্রোডাক্টটি ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।এজন্য অডিয়েন্স ধরে রাখা, তাদের কাছে বার বার মার্কেটিং করে মেসেজ পৌছে দেওয়াটাই হচ্ছে রিমার্কেটিং।

১০) ইনফ্লুয়েন্সার হওয়াঃ- কোন বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট হিসেবে অনলাইনে মানুষের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে পারাকে ইনফ্লুয়েন্সার বলে। ইনফ্লুয়েন্সার হলে মার্কেটিং এ সফলতা লাভ করা যায়।

১১) মাসিক মার্কেটিং রিপোর্ট পযবেক্ষণঃ- প্রতিটা মার্কেটিংয়ের প্রতিটা ফলাফল দেখার ব্যবস্থা রয়েছে ফেসবুকের কিছু টুলস। সেগুলো অ্যানালাইস করেই মার্কেটিং করতে হবে।

১২) রিপোর্ট অনুযায়ি মার্কেটিং প্লান তৈরিঃ- মাসিক রিপোর্ট অনুযায়ি পরবর্তী মাসের মার্কেটিং প্লানটা সাজাতে হবে। কোন ধরনের কনটেন্ট মানুষকে আকর্ষণ করছে, কোন সময়ে মানুষজন অনলাইনে বেশি থাকে সেগুলো জেনে মার্কেটিং করতে হবে।

১৩) কম্পিটিটরদের অ্যানালাইস করাঃ- আপনার যারা কম্পিটিটর তাদের অ্যানালাইস না করে মার্কেটিংয়ে নামলে মার্কেটিং করলে কোন লাভ হবেনা। কম্পিটিটরদের থেকে আইডিয়া নিয়ে তারপর আপনার মার্কেটিং প্লান তৈরি করুন।

ফেসবুক মার্কেটিং টিপস –

  • ফেসবুক মার্কেটিং দক্ষতা থাকলে অনেকভাবেই ইনকাম করা যায়। কিন্তু ফেসবুক দক্ষত বলতে আমাদের কাছে পরিস্কার না। কি কি দক্ষতা থাকা দরকার, সেটি একটু সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

১) লিড সংগ্রহ: ফেসবুকে লাইক বৃদ্ধি করে ব্যবসার জন্য লাভ নাই। লিড বৃদ্ধি করতে হবে। ওজন কমানোর কোন ঔষধ বিক্রি করার জন্য পেজ খুলছেন। সে পেজে ১০,০০০ লাইক রয়েছে, যার মধ্যে ৯,৯৯৯ হচ্ছে চিকন মানুষের লাইক। তাহলে তাদের কাছে জীবনে ঔষধ বিক্রি করা যাবেনা। যারা মোটা এবং মোটা নিয়ে চিন্তিত তাদেরকেই আপনার পেজে নিয়ে আনা উচিত। এদেরকেই পেজে নিয়ে আনাকে লিড সংগ্রহ বলে।২) লিড পরিচযা: পেজে যখন লিড তৈরি হলো তাদের জন্য সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে দিয়ে মোটা থেকে চিকন হওয়ার গুরুত্বমূলক, আতংক তৈরি মূলক পোস্ট তৈরি করতে হবে। এগুলো দেখে সেই পেজের মানুষজনের মধ্যে চিকন হওয়ার প্রোডাক্ট কিনার আগ্রহ তৈরি হবে। একেই বলে লিড নার্সিং বা লিড পরিচযা।৩) সেলস ফানেল: আমরা মার্কেটিং করার সময় সবসময় প্রোডাক্টি কেনা সম্পর্কিত পোস্টটাই দিয়ে থাকি। প্রোডাক্টের মূল্য, প্রোডাক্ট কেন ভাল এ টাইপ পোস্ট প্রতিনিয়ত দিয়ে থাকি। এটা করলে একটা পযায়ে সেল বন্ধ হয়ে যায় কিংবা সেল ভাল পাওয়া যায়না। কিন্তু দেখা যায় পরিশ্রম প্রচুর করা হচ্ছে। এটাকে সহজ একটা ব্যাখ্যা দিয়ে সেমিনারটিতে বুঝানোর চেষ্টা করেছি।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে মূলত এটাই বুঝা যায় যে ডিজিটাল দুনিয়ায় সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ফেসবুক মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।কারণ এর মাধ্যমে সহযেই হিউজফুল টার্গেটেট গ্রাহক খুজে বের করা যায়। উক্ত গ্রাহকদের কাছে সহযেই পন্য বা সেবার মার্কেটিং করা যায়।তাই আসুন আমরা ফেসবুক কে মার্কেটিং প্লাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়ে পন্য বা
সেবার মার্কেট গ্রো করি।