ধর্ষণ প্রসংগ
বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ধর্ষণের সংখ্য দৈনিক ৪ জন নারী – শিশু। আর অজানা কি পরিমাণ তা অনুমেয়। বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা বা পরিবার ঘটনা চেপে যায়, প্রকাশ করে না।
.
আমার মতে যে সকল আলেম বলে যে, আজে বাজে পোশাক পরে ছেলেদের সামনে ঘুরে বেড়ায় বলেই ছেলেরা উস্কানী পায়, সেই সকল নাদান পাগল এবং নারী বিদ্বেষী আলেমদেরকে জেলে দেয়া উচিত। আরে নাদান, পোশাক পরলো শহরের গুটি কয়েক ছাত্রী বা অন্য নারী আর ধর্ষণ হল দিনাজপুরের আদিবাসী বা কোন এক অজ পাড়াগাঁয়ের এক দরিদ্র গৃহিণী বা শিশু বা বস্তিতে বা কোন গার্মেন্টস কর্মী ।

যে সভায় এই কথা সে বলে, সেই সভায় সেই মুহূর্তে তার কথা শুনেই দুই চারজন ধর্ষকের সৃষ্টি হয়। তার উচিত ধর্ষণ করা কত বড় পাপ এবং এহ কালে পরকালে সাজে কি হবে সেগুলা। কি বলে না বলে। এমন কি এই বক্তব্যের সময় হাসাহাসি করতেও দেখেছি। উনি নিজে এবং মুসুল্লী সবাই হাসাহাসি করেছে।
.
ধর্ষকদের সামাজিক অবস্থানের মধ্যে ১৪.৯ শতাংশ ধনিক শ্রেণির সন্তান, ৯.১ শতাংশ রাজনীতিবিদের সন্তান/আত্মীয় এবং ৪.৬ শতাংশ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী – প্রথম আলো ৩ ফে ২০২০।

ফ্রিল্যান্সিং কি জব ?

এই মারাত্মক অপরাধের বিচার খুব কম হয়। আদালতে / থানায় মামলা গেলে প্রমাণ করা কঠিন হয়, বিচার বিলম্বিত হয়, পুলিশ প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা চার্জশিট দেয় ।
.
আসামীরা সমাজেই বাস করে। মানুষ তার অপকর্মের কথা ভুলে যায়। তার কোন লজ্জাও নেই। অতঃপর সে কারো বাবা, কারো স্বামী, কারো শ্বশুর হয়েই বেঁচে থাকে।
সামাজিক প্রতাপ- শক্তি, দম্ভ, বিচার না হওয়া, নারীকে ছোট করে দেখা , সমাজে প্রভাবশালী মানুষগুলার ধর্ষণের বিষয়ে অবহেলা এগুলাই হচ্ছে ধর্ষণের উস্কানী। আর সমাজে যাত্রা পালার নামে অশ্লিলতা এবং ইন্টারনেটের ভুমিকা আছে তবে তা সামান্যই। বড় উস্কানিই হল যে, বিচার হয় না।