ক্যাশঃ

ক্যাশ হলো অস্থায়ী ভাবে একটি নির্দিস্ট সময় পর্যন্ত র‍্যামে ডেটা সংরক্ষণ করে রাখা। যেমন ধরুন আমি সার্ভার থেকে একটি ছবি লোড করলাম এখন যতক্ষণ আমি সেই পেইজে থাকবো সেই ছবিটি আর দ্বিতীয়বার লোড হবেনা। সার্ভারে আবার ডেটার জন্য রিকোয়েস্ট করলে প্রোগ্রাম শুরুতেই চেক করবে যে এই ছবি কি ক্যাশ করা আছে কিনা যদি থাকে তাহলে ক্যাশ থেকে লোড করবে আর না থাকলে সার্ভার থেকে লোড করে সাথে সাথে ক্যাশ করবে।

ফেসবুক স্ক্রলিং এর সময় হয়তো দেখবেন আপনি নিচের দিকে নাম্বার সময় নতুন নতুন ডেটা লোড হয় সার্ভার থেকে কিন্তু একবার লোড হয়ে যাওয়া ডেটা উপরে উঠার সময় পুনরায় লোড হয়না সার্ভার থেকে যদিনা ডেটার কোনো পরিবর্তন হয়। এটাই ক্যাশিং।

কুকিঃ

মনেকরুন আপনি একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন। এবার আপনাকে অপশন দেয়া হলো আপনি ওয়েব কন্টেন্ট গুলো ইংরেজিতে দেখতে চান নাকি বাংলায়? আপনি নির্বাচন করে দিলেন ইংরেজি। এখন সেই ওয়েবসাইট ক্রিয়েটর চাইলে “কুকি” নামক ফাইলের মধ্যে আপনার যাচাইকৃত তথ্যটি রেখে দিতে পারে যেনো পরবর্তিতে আপনি একই ওয়েবসাইটে পুনরায় প্রবেশ করলে আপনাকে আবার ভাষা নির্বাচন করতে না হয় এবং পূর্বে নির্বাচনকৃত ভাষাতেই আপনাকে কন্টেন্ট গুলো দেখাতে পারে। কুকিজ ফাইল গুলো আপনার ডিভাইসের মধ্যেই সঞ্চয় করা হয়। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। তবে এমন অনেক কাজে কুকির ব্যবহার রয়েছে।

এতক্ষণে বুঝে গেছেন এই কুকিজ গুলো আসলে খাওয়ার কুকিজ না আবার মাথায় দেয়ার কুকিজ ও না।

কুকিজে অনেক ধরনের তথ্য জমা করা হয় আপনার সুবিধার জন্য। কুকিজে কি কি রাখা হবে এটা ওয়েবসাইটের ডেভলপাররা নির্ধারন করেন। একটি ওয়েব সাইটের কুকিজ অন্য ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হয়না কিন্তু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি কুকি ফাইল আপনার যেকোনো ধরনের তথ্য /উপাত্ত জমা রাখতে পারে এবং এটা সেই ওয়েবসাইটের ডেভলপারের উপর নির্ভর করে। ডেভলপার চাইলে কুকিগুলো ভালো কাজেও ব্যবহার করতে পারেন বা খারাপ কাজে।

দিন দিন ওয়েবসাইট গুলো উন্নত হওয়ার সাথে সাথে সেগুলো অপটিমাইজ করার জন্য কুকির আকার বড় হতে থাকলো। যেহেতু কুকিজ আপনার ডিভাইসেই থাকে সেহেতু এগুলো ডিভাইস মেমরির অনেক জায়গা দখল করা শুরু করলো। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডেভলপাররা কুকিজ গুলো তাদের সার্ভারে রাখা শুরু করলো, কিন্তু কিভাবে নির্ধারণ করবে যে এগুলো আপনার কুকিজ ? হুম সেজন্য তারা আপনার কুকিজের সাথে একটি ইউনিক আইডি যুক্ত করে দিলো যাতে করে ফাইলগুলো তাদের সার্ভারে থাকলেও সেগুলো যে আপনার ফাইল তা বোঝা যায়।

ইনকোগনিটোঃ

ইনকোগনিটো মোড অন করলে ব্রাউজার কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকে যেমন আপনার আইপি ট্র্যাক করা।(সব ক্ষেত্রে না), কুকিজ সেইভ করা, হিস্ট্রি সেইভ করা, ফর্ম ডেটা সেইভ করা ইত্যাদি। মূলত ট্র্যাক না রাখার কাজটা আপনার কম্পিউটারেই হয়। সার্ভার সাইডে এর কোনো প্রভাব পড়েনা।

ইনকোগনিটো ব্রাউজার ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফিচার দিয়ে থাকে। অনেক ব্রাউজারে আইপি পরিবর্তন করা হয়না তাই আইএসপি চাইলে সব কিছুই দেখতে পারবে তাছাড়া আপনি কোন কোন সাইট ভিজিট করেছেন সেগুলোও দেখা যাবে।

ইনকোগনিটো মোডের আরো কিছু সমস্যা আছে যেমন আপনি ভাইরাস / ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করার সময় আপনাকে কোনো রকম সতর্ক বার্তা দিবেনা। ফলে আপনি ভুলে এসব ইন্সটল করে ফেলতে পারেন।

সুতরাং বলা যায় ইনকোগনিটো মোড ব্যবহার করে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়না। আপনি যদি আপনার গোপনীয়তা পুরোপুরি রক্ষা করতে চান তাহলে ভিপিএন ব্যবহার করুন। ফ্রি ভিপিএন ব্যবহার করলেও কিছুটা রিস্ক থেকেই যায়। তাই সম্ভব হলে পেইড ভিপিএন ব্যবহার করুন।