কীওয়ার্ড রিসার্চ হচ্ছে যেকোনো ধরনের সার্চ ইঞ্জিন বেজড অনলাইন মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ বিষয়। আর কেন জানি আমরা বাঙালিরা এই বিষয়টাতেই সবচেয়ে বেশি ঢিলেমি দেই।যার ফলশ্রুতিতে এক সময় গিয়ে যখন দেখি দিনের পর দিন চলে যায়, মাসের পর মাস চলে যায় কিন্তু গুগল মামু আর রাংক দেয় না; তখনই অনেকে প্রচন্ড হতাশ হয়ে পড়েন।একটা জিনিস মাথায় রাখবেন সব সময়। কীওয়ার্ড হচ্ছে একন একটি একটি বাক্য বা কয়েকটি শব্দ সমষ্টি যেটা সার্চ করেই ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে।আপনার সাইটের অনপেজ থেকে শুরু করে অফ পেজ পর্যন্ত সব জায়গাতেই আপনি এই কীওয়ার্ডটি ব্যবহার করবেন।তাই যদি আপনার প্রজেক্টের বা প্ল্যানের সেই গোড়াতেই গলদ হয়ে থাকে তাহলে দু’দিন পরে সব টাকা পয়সা লস করে মাথায় দিয়ে বসে থাকতে আপনার বা আমার কারোরই খুব একটা সময় লাগবে না।

কি কি কাজ করা যাবে না কীওয়ার্ড রিসার্চের সময়:

  1. ভুলেও তাড়াহুড়ো করা যাবে না। আপনি ধরেই নিবেন যে আপনার কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে ৭ দিন সময় লাগবে।
  2. সব সময় টুলসের উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। আমাদের মধ্যে অনেকেই Ahrefs বা Semrush এর ডাটাকে ভগবান মানেন। বিষয়টি এমন যে ওরা কোনোমতেই ভুল করতে পারে না।

    কেউ কেউ তো আবার Ahrefs বা Semrush কে গুগলের উপরেও স্থান দিয়ে বসিয়ে রাখেন। Ahrefs বা Semrush এ দেখিয়েছে এই সাইটের এতোগুলি ব্যাকলিংক আছে, তারমানে এতগুলিই আছে এরকম ধারনা মাথা থেকে ঝেটেঁ ফেলে দিতে হবে।
  3. শুরুতেই হাই সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ড দিয়ে কাজ শুরু না করা; কম্পিটিশন কম থাকলেও।
  4. ”Dog NIche টা অনেক হাই কম্পিটিটিভ, এটা নিয়ে কাজ করা যাবে না” – এমন ধারনা রাখা যাবে না। পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেকটি নিশের জন্য অবশ্যই লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড আছে। আরও পড়ুন সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান

    তার কারন এই পৃথিবীতে এখনও মানুষ বেচেঁ আছে। আর এই ৭০০ কোটি মানুষের চিন্তা ধারা ৭০০ ধরনের। আপনি হয়ত ৫০০ মানুষ যে ধরনের চিন্তা ভাবনা নিয়ে গুগলে সার্চ করে সেগুলো টার্গেট না করে অন্তত ৫০ জন যে বিষয়গুলো নিয়ে গুগলে সার্চ করে সেগুলি নিয়ে কাজ করুন।

    ওই ৫০ সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ডে রাংক করলেও আপনার কিছু না কিছু লাভ হবে। এরকম ১০টা কীওয়ার্ডে রাংক করলেও মাসে ২/৩’শ সার্চ ট্রাফিক আপনি এমনিই পাবেন।
  5. একই সাথে কীওয়ার্ড সিলেকশন ও কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস না করা।

কিভাবে কীওয়ার্ড আইডিয়া পাবেন:

কীওয়ার্ড আইডিয়া নেওয়ার জন্য অনেকে অনেক ধরনের টেকনিক করে থাকে। তার মধ্যে কয়েকটি টেকনিক হলো:

  1. Google Auto Suggest & Related Search Query: বিশ্বাস করবেন কি না জানি না আমার কাছে এখন পর্যন্ত এই একটি টেকনিক সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় এখন পর্যন্ত। গুগলের এই অটো সাজেস্ট ও রিলেটেড কীওয়ার্ড এর লিস্ট থেকে আপনি যতগুলি পারেন কীওয়ার্ড আইডিয়া নিন।

    সবগুলোকে আপনার গুগল শীটের মধ্যে লিস্ট করতে থাকুন। আপনি যতো সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিস্ট করতে পারবেন পরবর্তীতে আপনার কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস করা তত বেশি সহজ হবে।
  2. YouTube/Amazon Auto Suggest: শুধুমাত্র গুগলই কিন্তু এই পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন নয়। ইউটিউব ও অ্যামাজনকেও যথাক্রমে ভিডিও শেয়ারিং সাইটের দিক দিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন এবং অ্যামাজনকে ইকমার্স সাইটগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন বলে ধরা হয়ে থাকে।

    তাই সেগুলি থেকেও কীওয়ার্ড সাজেশন নিন এবং সবগুলিকে লিস্ট করতে শুরু করুন।
  3. Google Keyword Planner: বিশ্বাস করুন আর নাই করুন আপনি যদি শুধুমাত্র এই Google Keyword Planner এর সঠিক ব্যবহার করে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে জানেন তাহলে বাকি টুলসগুলো আপনার খুব একটা ব্যবহার না করলেও চলবে।

    সাধারনত আমাদের মধ্যে অনেকেই বাংলা ব্লগিং ওয়েবসাইটের জন্য কিভাবে কীওয়ার্ড রিসার্চ করবেন সে ব্যাপারে ঠিকভাবে জানেন না। আমি আমার পূর্বের বহু বাংলা ব্লগের জন্য এই Google Keyword Planner টুলসটি ব্যবহার করে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতাম এবং মোটামুটি বেশ ভালো পরিমাণে অর্গানিক ট্রাফিক আমি আমার সাইটগুলোতে ড্রাইভ করাতে সক্ষম হয়েছিলাম।

    [ইংরেজী ব্লগগুলোতে আপনি যেরকম ট্রাফিক ড্রাইভ করাতে পারবেন বাংলা ব্লগগুলোতে ওরকম খুব একটা পারবেন না। কারন এখনও পর্যন্ত মানুষ বাংলায় ওরকমভাবে ইংরেজী ভাষার মতো খুব একটা সার্চ করে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাংলা সাইটগুলোর জন্য কিছুটা কষ্টকর এরকম বাংলা কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা। তবে একবারে যে খারাপও হয়, তাও নয়]
  4. Ubersuggest: বর্তমান সময়ে এই উবার সাজেস্ট কিছুটা পেইড টুলস হলেও আপনি ফ্রিতেও মোটামুটি বেশ ভালো ভালো কিছু কীওয়ার্ড এর সাজেশন পাবেন এ টুলসের সাহায্যে। বিশেষ করে Comparison টাইপের কীওয়ার্ড এর সেকশনটা আমার নিজের কাছে খুব ভালো লাগে এই টুলসটার। আরও পড়ুন কি ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন।

    আমার সাজেশন হবে ৩৫০ টাকা দিয়ে যদি আপনি কিনে নিতে পারেন এই টুলসটি একমাসের জন্য তাহলে খুব একটা খারাপ হবে না। অন্তত অন্যান্য এসইও টুলসের তুলনায় [দামের দিক দিয়ে] এটি আপনাকে বেশ ভালো হেল্প করবে কম দামে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে বেশ ভালো কিছু কীওয়ার্ড আইডিয়া খুজেঁ বের করতে।
  5. Soovle: Soovle এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি নিজে কোনো টপিক লিখে সার্চ দিলে সেটি আপনাকে ৫টি ওয়েবসাইট এর সার্চ বক্স থেকে কীওয়ার্ড আইডিয়া দিবে। সাইট ৭টি হল – Google, Wikipedia, Answer.Com, YouTube, Bing, Yahoo, Amazon।

    এই একটি টুলস আপনাকে একই সাথে এই ৭টি ওয়েবসাইট কীওয়ার্ড সাজেশন এনে দিবে। এই ফিচটারটি আমার নিজের কাছে খুব মারাত্নক বলে মনে হয়। আপনি নিজেও চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

    যে সমস্ত কীওয়ার্ড আইডিয়া পাবেন সবগুলিকে আপনার ওই গুগল শীটে নোট করে ফেলুন।
  6. LSIGraph: এই ওয়েবসাইটটি সাধারনত আমরা অনেকে LSI Keyword বের করতে ব্যবহার করে থাকি। সাধারনত কনটেন্ট রাইটিং এর সময় বা এ ধরনের কাজ করতে গেলে আমরা একবার এই সাইটে ঢু মেরে আসি।

    আমি যখন কীওয়ার্ড রিসার্চ করি তখনও একবার এই সাইটে ঢু মারি। তার কারন এই সাইটের মধ্যে থেকে আমি অনেক সময় অনেক ভালো ভালো সুন্দর সুন্দর লং টেইল কীওয়ার্ড সাজেশন পেয়েছি। যেগুলো আমাকে আমার বা আমার ক্লায়েন্ট এর ওয়েবসাইটগুলোতে ট্রাফিক ড্রাইভ করতে হেল্প খুব করেছে।

    *** আমরা অনেক সময় Anchor Text রেশিও বজায় রাখতে গিয়ে খুব টেনশনে পড়ে যাই। কারন চিন্তা করে ব্র্যান্ডেড অ্যাংকর দিব নাকি জেনেরিক অ্যাংকর দিব।

    আমি অনেক সময় এই LSIGraph থেকে কীওয়ার্ড সাজেশন নিয়ে LSI Keyword দিয়ে অ্যাংকর করেছি। এতে যেমন একদিকে আপনি গুগলের পেনাল্টির রিস্ক থেকে বেচেঁ থাকতে পারবেন অন্যদিকে বিষয়টিকে খুব ন্যাচারাল বলেও মনে হবে।

    তবে চেষ্টা করবেন বেশির ভাগ সময় ব্র্যান্ডেড বা জেনেরিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে।
  7. Wikipedia: আপনি যদি ইনফরমেটিভ আর্টিকেল লেখার জন্য কীওয়ার্ড সার্চ করেন তাহলে উইকিপিডিয়া হতে পারে আপনার জন্য একটি তুখোড় ক্ষেপনাস্ত্র।

    উইকিপিডিয়ার টেবিল অব কনটেন্ট এর ভিতর থেকে আপনি খুব সুন্দর সুন্দর কিছু কীওয়ার্ড আইডিয়া পাবেন। সেগুলি দিয়ে আপনি চাইলে আপনার ইনফরমেটিভ আর্টিকেল লিখতে পারবেন। তাছাড়া আপনার কনটেন্ট এর হেডিংগুলোও আপনি চাইলে এখানে থেকে ধারনা নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
  8. Forums: আপনার নিশ রিলেটেড যে সমস্ত ফোরাম আছে সেগুলোতে গিয়ে একটু খোজঁ করে দেখুন কোন কোন বিষয় নিয়ে সেখানে খুব কথাবার্তা হচ্ছে, কি কি টপিকে তারা আড্ডা দিচ্ছে। একটু নোট করুন সেগুলো।

    ভেবে দেখুন তারা যে সব নিয়ে ফোরামে কথাবার্তা বলছে সেগুলি নিয়ে কিন্তু তারা অবশ্যই ১/২ বার গুগলেও সার্চ করেছে। আচ্ছা তারা না করুক, অন্য কেউ তো করতে পারে। ওই সমস্ত কীওয়ার্ডগুলোরও কিন্তু কিছু না কিছু সার্চ ভলিউম থাকার কথা। তাই সেগুলিকেও আপনার শীটে নোট করে ফেলুন।

আশা করছি এতোগুলি জায়গা থেকে কীওয়ার্ড আইডিয়া পাওয়ার পরে আপনার আর খুব একটা কীওয়ার্ড এর সাজেশন এর দরকার পড়বে না। আর যদিওবা পড়ে তাহলে তো Ahrefs, Semrush, Moz, KWFinder, Keywordtool.io ইত্যাদি বড় বড় সাইট আছেই তাদের থেকেও আপনি যদি পারেন (টাকা থাকে) কীওয়ার্ড সাজেশন নিবেন।

কিভাবে কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস করবেন?

কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস করার কয়েকটা পদ্ধতি আছে। অনেকে এক্ষেত্রে নিজেই নিজের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি বা টেকনিক বা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে নেন। তবে আমি নিচে কয়েকটি টেকনিক নিচে আলোচনা করছি।

গুগলের ১ম পেজে কমপক্ষে ৩টি ওয়েবসাইট আছে কি না যাদের ডোমেইন অথোরিটি ও পেজ অথোরিটি ৩০ এর নিচে। আরও পড়ুন এলেক্সার রেংকিং কি ? এলেক্সার রেংকিং নিয়ে বিস্তারিত টিপস।

যদি থাকে তাহলে সেই কীওয়ার্ডটি নিয়ে আপনি চাইলে কাজ করতে পারেন (ব্যক্তিগতভাবে এই পদ্ধতিটি আমি আর এখন ব্যবহার করি না। আমার কাছে এটি খুব একটা ভালো লাগে না। এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত। )
গুগলের ১ম পেজে যে সমস্ত ওয়েবসাইট আছে তাদের সবার গড় ডোমেইন অথোরিটি ৩০ এর নিচে, পেজ অথোরিটি ২০ এর নিচে এবং ব্যাকলিংক ১০০ এর নিচে হলে আপনি চাইলে সেই কীওয়ার্ডটিকে নির্বাচন করতে পারেন।

যারা মোটামুটি বেশ ভালো অভিজ্ঞ এসইওতে তারা এই পদ্ধতিটি নিয়ে কাজ করতে পারেন চাইলে। তবে নতুন যারা তাদের এই পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা মতামত দিব না।
গুগলের ১ম পেজের সমস্ত ওয়েবসাইটের (গড় নয়) ডোমেইন অথোরিটি ৩০ এর নিচে (পারলে ২০ এর নিচে নেওয়ার চেষ্টা করুন), পেজ অথোরিটি ২০ এর নিচে এবং ব্যাকলিংক ২০ এর নিচে।

আমার কাছে এই পদ্ধতিটি খুব ভালো লাগে এবং যারা নতুন আমি তাদেরকে বলব আপনারা এই পদ্ধতিতে আপনাদের কীওয়ার্ড লিস্টের কম্পিটিশন অ্যানালাইসিস করুন।

লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ডের কিছু বৈশিষ্ট্য:

  1. যদি ইউটিউব ভিডিও থাকে গুগলের ১ম পেজে তাহলে বুঝবেন সেটি একটি লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড।
  2. কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম যেমন: ফেসবুক, টুইটার, পিনটারেস্ট ইত্যাদি যদি থাকে গুগলের ১ম পেজে তাহলে বুঝবেন সেটি একটি লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড।
  3. কোনো পিডিএফ ফাইল বা ডক ফাইল যদি থাকে গুগলের ১ম পেজে তাহলে বুঝবেন সেটি একটি লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড।
  4. যদি কোনো ওয়েব ২.০ সাইট থাকে গুগলের ১ম পেজে তাহলে বুঝবেন সেটি একটি লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড।
  5. যদি কোনো ফোরাম সাইট (যেমন: কোরা.কম) থাকে গুগলের ১ম পেজে তাহলে বুঝবেন সেটি একটি লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ড।

কিছু কমন প্রশ্ন উত্তর:

প্রশ্ন: কীওয়ার্ড এর সার্চ ভলিউম তো একেক টুলসে একেক রকম দেখায়। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কোনটা?উত্তর: Google Keyword Planner। যদি পারেন ভাই, এটি ব্যবহার করুন। কারন গুগলে কে কতবার কোন কীওয়ার্ড লিখে সার্চ দেয় এটি গুগলের থেকে ভালো আর কেউ বলতে পারবে না।আর যদি বলেন যে Google Keyword Planner তো কীওয়ার্ড এর সঠিক সার্চ ভলিউম দেখায় না, তাহলে বলব আপনার হয়ত জানার কিছুটা ভুল আছে বা ধারনা কম আছে। Google Keyword Planner থেকেও সঠিক এবং Exact ডাটা পাওয়া যায় কিন্তু তার জন্য কিছু খরচাপাতি করতে হয়।তাই একটু কষ্ট করে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করুন আশা করছি বুঝতে পারবেন। মাহদী ভাইয়ের বর্তমানে একটি এসইও কোর্স রয়েছে। আপনি চাইলে সেখানে জয়েন করতে পারেন। আমার বিশ্বাস এটি করলে আপনার আর কীওয়ার্ড রিসার্চ নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না (প্লিজ ভাই, এটাকে তেলবাজি মনে করবেন না। ভালোকে ভালো আর খারাপকে খারাপ আমাদের সবারই বলা উচিত। এখন পর্যন্ত আমি উনার বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রমান পাই নি বা উনার কোর্সের বিরুদ্ধে পাই নি। যদি কেউ পেয়ে থাকেন একটু কষ্ট করে আমাকেও জানাবেন।)প্রশ্ন: একেক টুলসের একেক রকম কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টি দেখায়। কোনটি বিশ্বাস করবো?উত্তর: একটাও না। ভাই, এরা রোবট। এরা আপনার আমার মতো মানুষ না। এরা একেক জন একেকটা ম্যাট্রিক্স এর উপর ভিত্তি করে রেজাল্ট শো করে।কেউ গুগলের ১ম পেজের সবার ব্যাকলিংকের উপর ভিত্তি করে রেজা্ল্ট দেয় তো আবার কেউ দেখা যায় সবার ডোমেইন অথোরিটির উপর বেজ করে রেজাল্ট দেয়।এমনও হতে পারে যে ১টা সাইটের ব্যাকলিংক ৩০০ আর বাকি সবগুলোর ১, ২ করে। তখন কি আপনি ওই কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন না?বা ধরুন সবারই ব্যাকলিংক ৫০/৬০টা করে কিন্তু সব হচ্ছে স্প্যামি আর লো কোয়ালিটির ব্যাকলিংক। তখন কি আপনি ওই কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন না।?নিশ্চয়ই করবেন।তাই অন্ধের মতো টুলসের উপর বিশ্বাস না করে নিজেও একটু ম্যানুয়ালি চেক করুন। আমার কাছে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে হয়।প্রশ্ন: ভাই KGR কীওয়ার্ড নিয়ে তো কিছু বললেন না।উত্তর: জি, বলি নি। একে তো এটা একটা অ্যাডভান্সড লেভেলের এসইও টেকনিক আবার অন্যদিকে এটিকে অনেকে ব্ল্যাক হেট টেকনিকও মনে করেন। তাই এ ধরনের সুন্দর একটি পরিবেশে এই টপিকে খুব একটা আলোচনা করতে ইচ্ছা করল না আরকি। 😉প্রশ্ন: ভাই বায়িং ইনটেন্ট কীওয়ার্ড, ইনফরমেটিভ কীওয়ার্ড, ব্রড কীওয়ার্ড, ফ্রেচ ম্যাচ কীওয়াড – এগুলি নিয়ে তো কিছু বললেন না।উত্তর: বাহ্, আপনি তো দেখছি কীওয়ার্ড রিসার্চ সর্ম্পকে ভালোই জানেন। তাহলে শুধু শুধু আবার জানা কথা জানতে চাচ্ছেন কেন? নাকি আমি জানি সেটি জানতে চাচ্ছেন? 😅😅😅 (আমি ভাই আসলে খুবই কম জানি। যতটুকু জানি ততটুকুই আসলে সবার সাথে শেয়ার করতে চাই আরকি।)আসলে এখানে আমি আজকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি কীওয়ার্ড রিসার্চ করা সর্ম্পকে। হ্যা, আমি জানি কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে গেলে আপনাকে কীওয়ার্ড এর প্রকারভেদ এগুলি সর্ম্পকে ধারনা রাখতে হবে। যদি আপনরা অনেকে এই বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চান তাহলে কমেন্ট করে জানিয়েন।আমি চেষ্টা করব সেটি নিয়ে আরেকটি পোস্ট করার। তবে একটি পোস্টের মধ্যে আসলে এতো কিছু দিলে বিষয়টা কেমন জানি হয়ে যাবে বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তাই দিই নি।প্রশ্ন: নতুন অবস্থায় কত সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করাটা ঠিক হবে?উত্তর: এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। আরও পড়ুন এসইও কি ? এসইও করে কি লাভ ? ক্যারিয়ার হিসেবে এসইও, কিভাবে শিখবেন।

আগেই বলে নিচ্ছি। আমি যদি একদম নতুন সাইট নিয়ে কাজ করি এবং আমার বাজেট বলতে গেলে না থাকে তাহলে আমি চেষ্টা করবো সর্বোচ্চ ৫০০ সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে। সর্বোচ্চ হয়ত ১ হাজার নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।তবে পারতপক্ষে চেষ্টা করব এর বেশি না যাওয়ার যদি না কীওয়ার্ডটি খুবই লো কম্পিটিটিভ হয় (যদি গুগলের ১ম পেজে লো কম্পিটিটিভ কীওয়ার্ডের বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে।)কারন আপনি যদি একটু খেয়াল করেন তাহলে বুঝবেন যেই কীওয়ার্ড এর সার্চ ভলিউম বেশি সেই কীওয়ার্ড আজকে লো কম্পিটিটিভ থাকলেও ১ মাস পরে সেটির কম্পিটিশন কিন্তু আস্তে আস্তে বাড়বে।কারন আপনার মতো হয়ত আরও অনেকেই এই কীওয়ার্ডে রাংক করার জন্য একইসাথে চেষ্টা করবে। তাই আপনাকে কিন্তু অলরেডি যারা রাংকে আছে, তাদের পাশাপাশি আপনার রানিং কম্পিটিটরদের (যারা আপনারই মতো ওই কীওয়ার্ডে একই সাথে রাংক করার চেষ্টা করছে) তাদের সাথেও কম্পিটিশন করে রাংকে আসতে হবে।তাই বেশি সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ড না নিয়ে অল্প সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করলে দেখবেন আপনি কম সময়ের মধ্যে রাংক করতে পারছেন।সেক্ষেত্রে অনেকে বলতে পারেন যে কম সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ডেও যে আপনার রানিং কম্পিটিটর কম হবে এর কি নিশ্চয়তা আছে?কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তবে, যেহেতু আমরা মানুষ সেহেতু আমাদের মধ্যে লোভ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই সাধারনত বেশিরভাগ মানুষই চাইবে কম কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টিসম্পন্ন হাই সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ডগুলোতে রাংক করার জন্য।কম কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টিসম্পন্ন কম সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ডগুলোতে সাধারনত মানুষজন খুব একটা টার্গেট করবে না যখন সে একই সাথে হাই সার্চ ভলিউমের ওই একই কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টিসম্পন্ন (কম কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টিসম্পন্ন) কীওয়ার্ড তার হাতের কাছে পাবে।তাই আমরা ধারনা করতে পারি যে কম কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টিসম্পন্ন হাই সার্চ ভলিউমের কীওয়ার্ডের তুলনায় কম সার্চ ভলিউমের কম কীওয়ার্ড ডিফিকাল্টিসম্পন্ন কীওয়ার্ডগুলোতে রানিং কম্পিটিটরের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।আশা করি কীওয়ার্ড রিসার্চ সর্ম্পকে আপনাদের মোটামুটি একটা ব্যাসিক ধারনা চলে এসেছে। ধন্যবাদ।