ওয়ার্ডপ্রেস এই মুহুর্তে বিশ্বের তুমুল জনপ্রিয় একটি সিএমএস (কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর নাম। খুব সহজেই নিজের হোস্টিং একাউন্টে একটি ওয়ার্ডপ্রেস সিস্টেম চালু করা যায়। আজকে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস সাইটকে কীভাবে দ্রুততর করা যায় (অর্থাৎ এর স্পিড বা গতি বাড়ানো যায়) সে ব্যাপারে কিছু জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

ওয়েব সাইটের স্পিড একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । যদি আপনার সাইট লোড হতে ২ সেকেন্ডের বেশী সময় লাগে তাহলে, বেশির ভাগ ভিজিটরই সাইট থেকে চলে যাবে।এছাড়াও ওয়েব সাইটের স্পিড এখন গুগলের একটি র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর। তাই এটি SEO- এসইও তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাইটকে দ্রুততর করার জন্য শেয়ারড হোস্টিং এর উপর নির্ভর না করাই ভালো। কেননা এগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় (আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ এবং স্টোরেজ) মনে হলে ও যখন ট্রাফিক বেশি হয় তখন আর কাজ করে না, এমন কি অফলাইনে ও চলে যায়। তাই নির্ভরযোগ্য দেখে একটা প্ল্যান ক্রয় করুন। ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য ভিপিএস সার্ভার হোস্টিং বা ম্যানেজড ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টি ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। কি ধরনের ওয়েব হোস্টিং ব্যবহার করা ভালো হবে।

আপনার ওয়েবসাইট লোড হতে কতো সময় লাগে তা চেক করুন।

১। একটা ভাল হোস্টিং প্ল্যান নির্বাচন করা

সাইটকে দ্রুততর করার জন্য শেয়ারড হোস্টিং এর উপর নির্ভর না করাই ভাল। কেননা এগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় (আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ এবং স্টোরেজ) মনে হলেও যখন ট্রাফিক বেশি  হয় তখন আর কাজ করে না, এমনকি অফলাইনেও চলে যায়। তাই নির্ভরযোগ্য দেখে একটা প্ল্যান ক্রয় করুন। 

২। উপযুক্ত থিম নির্বাচন করা

ওয়েবসাইট তৈরিতে থিম নির্বাচন খুবই গুরত্বপূর্ণ, কেননা ব্যবহারকারীরা এটাই প্রথমে দেখে। তবে থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া চাই। এমন থিম নির্বাচন করতে হবে যেটা স্টাইলিশ সেই সাথে হাল্কা এবং দ্রুত কাজ করে। এখন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এরকম অনেক ভাল ভাল ওয়ার্ডপ্রেস থিম পাওয়া যায়। যেমন WordPress.org repositoryThemeum প্রভৃতি।

উইজেট, অ্যাড প্লেসমেন্ট এর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিৎ। কারণ যত বেশি এ ধরণের কম্পোনেন্ট/ইলিমেন্ট শো করবেন, সাইটের পেইজ সাইজ তত বেড়ে যাবে।

৩। ইমেজ অপ্টিমাইজ করা

সাইটে ইমেজ আপলোডের ক্ষেত্রে এমন ইমেজ দিতে হবে যার সাইজ কম। আবার এত কম নয় যে কোয়ালিটি খারাপ হওয়ার কারণে ভিজিটর বিরক্ত হয়। অন্যদিকে বেশি বড় আকৃতির ছবি দিলে সাইট লোড হতে দেরি হয় এবং এটাও ভিজিটর দের বিরক্তির কারণ। এখন অনেক ধরনের ইমেজ রিসাইজার পাওয়া যায় যেমন FastStone Photo Resizer, যা ব্যবহার করে ইমেইজ অপ্টিমাইজ করতে পারেন। এছাড়া জেটপ্যাকের ফোটন সিডিএন ফিচার ব্যবহার করেও ইমেজ ডেলিভারির ক্ষেত্রে চমৎকার ফলাফল পেতে পারেন।

৪। ক্যাসিং প্লাগিন ব্যবহার করা

ক্যাসিং প্লাগিন আপনার সাইটকে আর দ্রুত লোড হওয়ার সুবিধা দিবে। দুটি জনপ্রিয় ওয়ার্ডপ্রেস ক্যাসিং প্লাগিন হলো W3 Total Cache এবং  WP Super Cache.

৫। ডাটাবেজ অপ্টিমাইজ করা

অনেক ধরনের অপ্রয়োজনীয় ডাটা ডাটাবেজে প্রতিনিয়ত সংরক্ষিত হতে থাকে যেমন ট্র্যাকব্যাক, পিং ব্যাক ইত্যাদি। এখন এমন অনেক ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন (WP-OptimizeWP DBManger) আছে যেগুলো আপনার ডাটাবেজকে এই সব অপ্রয়োজনীয় ডাটা মুক্ত রাখবে। সেই সাথে ট্রাই করুন পোস্ট রিভিসন প্লাগইন (Revision control plugin).

৬। প্লাগইন এর পারফর্মেন্স পর্যবেক্ষণ করা

সেলফ হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস সাইট এমন সব প্লাগইন ইন্সটল করার সুবিধা দেয় যা ওয়ার্ডপ্রেস ডটকমে পাওয়া যায় না। তবে বেশি মাত্রায় প্লাগইন ব্যবহারে সাইট স্লো হয়ে যায়। একারণে কোন প্লাগিন কতটা দরকারি এবং কোনটা কী পরিমাণ লোডিং টাইম কনজিউম করছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। এজন্য প্লাগিন পারফর্মেন্স প্রোফাইলার ব্যবহার করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

৭। সিডিএন ব্যবহার করা

সিডিএন বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক আপনার সাইটের যাবতীয় কনটেন্ট (টেক্সট, ইমেজ, এইচটিএমএল প্রভৃতি) হোস্টিং সার্ভার থেকে নিয়ে দ্রুততর উপায়ে ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছে দেয়। এতে আপনার মূল সার্ভারে চাপ কম পড়ে এবং সাইট ফাস্ট হয়। ক্লাউডফ্লেয়ারইনক্যাপসুলা প্রভৃতি সিডিএন সাইটের স্পিড বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের স্পিড বাড়ানোর জন্য আপনার কোনো পরামর্শ বা জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। এই WordPress blog ভিজিট করে ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে বিভিন্ন টিপস জানুন। আরো ওয়াডপ্রেস বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

থিম, প্লাগিন এবং ওয়ার্ডপ্রেস আপডেট রাখুনঃ

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট স্পিড এর জন্য ব্যাবহৃত থিম, প্লাগিন এবং ওয়ার্ডপ্রেস ভার্সন সর্বদা আপডেট রাখুন। সাধারণত, অনেক সময় ওয়ার্ডপ্রেস ভার্সন আপডেট এর ফলে ব্যাবহৃত থিম ও প্লাগিন এই আপডেটে কাজ নাও করতে পারে । এক্ষেত্রে যতদিন পুরোপুরি একটা ভার্সন পরিবর্তন না হয় ততদিন দেরি করে সেই ওয়ার্ডপ্রেসের ভার্সনটি আপডেট করুন । এতে করে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটি স্লো এবং হ্যাক হওয়া  থেকে বেঁচে যাবে। তবে প্রতিটি আপডেটের আগে অবশ্যই সাইটের ব্যাকাপ নিতে ভুলবেন না।

ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগিন কি ? চাইল্ড থিম কি ? আসুন আমরা সবাই জেনে নিই।

এছাড়া,  হোমপেইজ অতিরিক্ত ও অহেতুক কোন কন্টেন্ট না রাখা, পোস্ট রিভিশন এর নাম্বার লিমিট করে দেয়া, প্লাগইন এর পারফর্মেন্স পর্যবেক্ষণ করার মাদ্ধমে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটেড় স্পিড বাড়াতে পাড়বেন।

আশা করি উল্লেখিত টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের লোডিং স্পিডের উপর কোন প্রভাব পরবে না। লেখাটি পড়ে আপনার ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। যদি এ সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

আর্টিকেল ক্রেডিট এবং রিসার্চঃ গুগল এবং banglatech24.com , hostingreviews.com.bd