একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম আপনার ওয়েবসাইট এর বিন্যস( লে-আউট) , রঙ এবং ডিজাইন পাল্টে দিতে পারে। থিম পরিবর্তনের সাথে সাথে একটি সাইট এর সমূদয় দৃশ্যমান রূপ পাল্টে যায় যা একজন দর্শক ওয়েব ব্রাউজার এর মাধ্যমে দেখেন। ওয়ার্ড প্রেস এর হাজার হাজার থিম আছে যার প্রত্যেকটি যেকোনো ওয়েবসাইট কে একেবারে আলাদা রূপে উপস্থাপন করতে পারে।

আপনারা চাইলে আগের আর্টিকেল থেকে জেনে নিতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।


থিম এর কাজ কি ?
থিম মূলত ওয়ার্ড প্রেস এর ডাটাবেস থেকে ডাটা সংগ্রহ করে ব্রাউজারের মাধ্যমে দর্শকের জন্যে উপস্থাপন করে। যখন আপনি থিম তৈরি করছেন তখন আসলে আপনি কিভাবে দর্শকের সামনে ডাটা উপস্থাপন করতে চাইছেন তার ব্যাপারে নির্দেশনা তৈরি করেন। থিম তৈরি করার ব্যাপারে অনেক ওয়ার্ড প্রেস অনেক সুবিধা তৈরি করে রেখেছে,

যেমনঃ

  • আপনার সাইটে লে-আউট ইচ্ছে মত তৈরি করতে পারেন, লে-আউট হতে পারে স্ট্যাটিক অথবা লিকুইড, এক কলামের বা একাধিক কলামের, এটি হতেপারে গ্রিড বিভক্ত অথবা ডিভাইস রেস্পন্সিভ।
  • আপনার ওয়েবসাইট এর বিষয় বস্তু কি ভাবে এবং ঠিক কোন জায়গায় উপস্থাপিত হবে সেই নির্দেশনা দিতে পারেন।
  • আপনি ঠিক করে দিতে পারেন আপনার সাইট এর বিষয় বস্তু কিংবা কোন লেখা দর্শকের কোন বিশেষ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বা ফল হিসেবে বিশেষ ভাবে উপস্থাপিত হবে, অথবা কোন বিশেষ ডিভাইস এ বিশেষ রূপে দেখানো হবে।
  • আপনি পছন্দ মত টাইপগ্রাফি যুক্ত করে আপনার সাইটের এর বিষয় বস্তুকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।
  • আপনি নিজস্ব CSS এর সাহায্যে ইচ্ছে মত ডিজাইন এর দৃশ্যমান রূপ তৈরি করে নিতে পারেন।
  • মিডিয়া ব্যাবহারের মাধ্যমে পছন্দ মত ছবি, ভিডিও যুক্ত করতে পারেন।
    ওয়ার্ড প্রেস থিম প্রকৃতপক্ষে অনেক শক্তিশালী, কিন্তু একটি ভাল ওয়েবসাইট এর রঙ কিংবা ডিজাইনের চাইতে এর বিষয় বস্তুর সাথে দর্শক কতোটুকু সম্পৃক্ত হতে পারছে তার বিবেচনায় বিবেচ্য হয়, মূলত সাইটের বিষয় বস্তুর উপস্থাপনার সাথে দর্শকের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতাই এর সফলতার মান নির্ণায়ক।

থিম কিভাবে তৈরি হয় ?
মূলত ওয়ার্ড প্রেস সাইট অনেকগুলি ফাইল এর সম্মিলিত উপস্থাপনায় দৃশ্যমান হয়ে থাকে, আলাদা আলাদা ফাইল গুলি বিশেষ উপায়ে ব্রাউজারের মাধ্যমে নির্দেশিত উপায়ে উপস্থাপিত হয়।
থিমের আবশ্যিক ফাইল গুলি কি কি?
ওয়ার্ড প্রেস থিমে নুন্যতম দুইটি ফাইলের প্রয়োজন হয়
১। index.php ২। style.css
যদিও এই দুইটি ফাইল দিয়ে ওয়ার্ড প্রেস থিম তৈরি করা চলে তথাপি সাধারনত নিন্মুক্ত ফাইল গুলি ওয়ার্ড প্রেস থিম এর সাথে থাকে

  • PHP ফাইল template files এবং theme functions
  • Localization files
  • CSS files
  • Graphics
  • JavaScript
  • Text –সাধরনত লাইসেন্সএর তথ্য, থিম ব্যাবহারের নির্দেশনা সনবলিত readme.txt অথবা changelog ফাইল

ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম কি এবং কেন ব্যাবহার করা হয়ঃ

যারা ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করতে চান এবং থিম ডেভেলপমেন্ট এর ব্যাপারে আগ্রহী  তাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে- চাইল্ড থিম কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে। ওয়ার্ডপ্রেসে চাইল্ড থিম এমন একটি থিম যা ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলেশনের Themes ফোল্ডারের ভিতরেই থাকে এবং উপস্থিত অন্য একটি থিমের ফাংশনালিটি অনুযায়ী কাজ করে থাকে।

মুলত চাইল্ড থিম ব্যবহার করা হয় যেন মুল থিমটি কোন কারনে আপডেট করতে হলেও ডেভেলপ করা CSS, HTML কিংবা PHP কোডিং অক্ষুন্ন থাকে। অর্থাৎ- যদি আমরা কোন একটি থিম ব্যবহার করি যার আপডেট আসতে পারে বা ভবিষ্যতে মূল থিমটি আপানার দরকার হতে পারে তবে আমরা কিভাবে সেটি এডিট করব?

যেমন ওয়ার্ডপ্রেসের  Twenty Nineteen বা Twenty Eighteen থিমগুলো অনেক সময়ই ওয়ার্ডপ্রেস আপডেট হবার সাথে সাথে আপডেট হয়ে থাকে। তাই যদি আমরা সরাসরি এই থিমগুলোর কোন কিছু পরিবর্তন করে থাকি তবে নতুন আপডেট আসলে এই পরিবর্তন গুলো মুছে যাবে। তাই আমরা যা কিছু পরিবর্তন করব তা একটি চাইল্ড থিম বানিয়ে করব যা মুল থিমের মত কাজ করবে এবং মুল থিমের থেকে ফাংশান কল করে মুলথিমের কাজ করবে। সুবিধা হল আমরা আমাদের পরিবর্তন গুলো এই চাইল্ড থিমে করলে এবং পরে মুল থিম আপডেট করলেও আমাদের করা থিম এডিট গুলো রয়ে যাবে।

চাইল্ড থিম বানানোর জন্য প্রথমেই আপনার  Themes ফোল্ডারে একটি নতুন ফোল্ডার বানাতে হবে তারপর এখানে একটি style.css ফাইল তৈরি করতে হবে। এবার যদি আমরা Twenty Nineteen থিমটির একটি চাইল্ড থিম বানাতে চাই তবে style.css ফাইলের মধ্যে একদম উপরে এই কোড গুলো লিখতে হবে।

প্লাগিন কি ?

WordPress প্লাগিন হলো এক ধরনের এপ্লিকেশন যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে নতুন নতুন ফাংশন এবং ফিচার যুক্ত করা যায়। ঠিক যেমনটা আপনার মোবাইলের এপ্লিকেশনগুলো কাজ করে।

WordPress plugins ডাইরেক্টরি তে প্রায় ৪৮০০০ এর মত ফ্রি প্লাগিন রয়েছে। Github এ রয়েছে আরো প্রচুর।

এছাড়া আছে হাজারের মত Premium প্লাগিন যা বিভিন্ন ডেভেলপার এবং কোম্পানি বিক্রি করে থাকে।

২০০৩ এ WordPress আপনার ব্লগ শুরুর যাত্রা করে। বছরের পর বছর এতে বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা হয় এবং আজ WordPress ব্লগিং ক্ষেত্রে খুবই সমৃদ্ধশালী।

প্লাগিনের মাধ্যমে কি করা যায়?

WordPress প্লাগিন ছোট একধরনের software যাএর সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং যা যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরিতে সাহায্য করে।

উদাহরণস্বরূপঃ

  • Woocommerce প্লাগিনের মাধ্যমে একটি অনলাইন দোকান চালু করা
  • Envira Gallery plugin এর মাধ্যমে ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইট চালু করা
  • Knowledge based plugin এর মাধ্যমে Wiki সাইট চালু করা
  • Retainmenot এর মত কুপন ওয়েবসাইট চালু করা।
  • আরো প্রচুর কিছু…. আরো ওয়াডপ্রেস বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

বেশিরভাগ মানুষকেই বলতে শুনবেন “….. এর জন্য একটি প্লাগিন রয়েছে।”

আপনার ওয়েবসাইট কেমন বানাতে চান তাতে কি করতে চান সবকিছুর জন্যই প্লাগিন উপস্থিত। কোন ফিচার ডিফল্ট wordpress এ নেই তো কি হয়েছে তার জন্য প্লাগিন রয়েছে।

আপনার সাইটের SEO করার জন্য, পারফরমেন্স ঠিক করার জন্য, যোগাযোগ ফরমের জন্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য বা গ্যালারী তৈরির জন্য ইত্যাদির জন্য WordPress প্লাগিন রয়েছে।

প্লাগিন কিভাবে কাজ করে?

WordPress কে এমন ভাবে বানানো হয়ছে যাতে করে অন্য যেকেউ চাইলেই তার নিজের কোড এতে যুক্ত করতে পারবে। WordPress plugin API এর মাধ্যমে WordPress এর Functionality মডিফাই করা সম্ভব।

WordPress ডেভেলপারদের WordPress ডাটাবেজ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। আপনার ইন্সটল করা প্রতিটি প্লাগিন WordPress ডাটাবেজে অর্ন্তভুক্ত করা আছে। আপনি চাইলে যেকোন সময় প্লাগিন গুলো একটিভ এবং ডিএকটিভ করতে পারেন।

থিম এবং প্লাগিন এর পার্থক্য কি? 

থিম ও প্লাগিন এর কার্যকারিতা  পরস্পরের পরিপূরক, তবে, সর্বোত্তম কার্যাভ্যাস হিসেবে বলা যায় :

সাধারনত থিমে  জটিল কোন কার্যকারিতা বা ফিচার যোগ করা উচিত নয়,  কেন? এতে ব্যবহারকারী কোন কারনে তাদের থিম পরিবর্তন করলে তার ওয়েব সাইটের থিম আরোপিত  কারজকারিতা বা ফিচার সমূহের কর্মক্ষমতা বিকল হয়ে যেতে পারে।

ধরুন, আপনি একটি পোর্টফলিও থিম তৈরি করেছেন, আর তা কোন ব্যাবহার কারি তার সাইটে ব্যাবহার করল, কিন্তু কিছুদিন পরে অন্য থিমে যেতে চাইল, যাতে পোর্টফলিও সাইটের জন্যে অন্য কার্যকারীতা  যুক্ত আছে, তখন নিশ্চয়ই ব্যাবহার কারি কিছু তথ্য হারাবেন এবং জটিলতায় পরবেন ।

একারনে ওই বিশেষ কার্যকারিতা  বা ফাংশনালিটি আলাদা ভাবে প্লাগিন আকারে তৈরি করলে  তা ব্যাবহার কারি নিজের সুবিধা মত যুক্ত বা বিযুক্ত করে  সহজে নিজের প্রয়োজন মিঠাতে পারেন।

প্লাগিন এর সাহায্যে ফাংশনালিটি গুলিকে আলাদা ভাবে তৈরি করলে ব্যবহারকারীর কাছে  থিমের গ্রহন যোগ্যতা যেমন বারে তেমনি পছন্দ মত ফাংশনালিটি যুক্ত কিংবা বিযুক্ত করার সুবিধা থাকাতে অনেক বেশি ব্যাবহার উপযোগী। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

আর্টিকেল ক্রেডিট এবং রিসার্চঃ গুগল এবং notunblog.com , robiiwp.wordpress.com।