প্লিজ, প্রথমেই বলে রাখি টাইটেল দেখে হুমড়ি খেয়ে পোস্ট পড়তে আসবেন না। ৫ হাজার ডলার মুখের কথা না। বাংলাদেশী টাকায় হিসেব করলে প্রায় ৪ লাখ বা সাড়ে ৪ লাখ টাকার মতো!!!গুগল আমার শ্বশুর লাগে না যে আমি বললেই সে আমাকে গদগদ হয়ে টাকার বস্তা আমার বাসায় পাঠিয়ে দিবে। এর জন্য আপনাকে প্রচুর সময়, পরিশ্রম ও স্টাডি করতে হবে।তবে উপরের ২ লাইন পরে যেন আবার এখন পোস্টটা স্কিপ করে চলে না যান। তাহলে মিস করবেন।কি কি করতে হবে ? আরও পড়ুন কীওয়ার্ড রিসার্চ

  • সবার প্রথমে পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। আপনি বিদ্যার জাহাজ হয়েও লাভ হবে না যদি না আপনি পরিশ্রমী হন।
  • হাতে ২ বছর সময় রাখবেন। তবে টার্গেট রাখবেন ১ বছর। সর্বোচ্চ দেড় বছর টার্গেট নিবেন। কিন্তু ২ বছর হাতে নিয়ে তারপর মাঠে খেলতে নামতে নামবেন। আশা করি বুঝাতে পেরেছি।
  • পারতপক্ষে ওয়ান ম্যান আর্মি হওয়ার ইচ্ছা থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন। একসাথে সব করতে যাবেন না [কেউ আবার কমেন্টে এসে সাকিব আল হাসানের কথা বলিয়েন না।]।

    চেষ্টা করবেন টিম ওয়ার্ক করতে। তাহলে সফলতা যেমন দ্রুত আসবে তেমনি ইনকামও আনলিমিটেড করতে পারবেন। আপনাকে আমি যতোই ঠেলাঠেলি করি না কেন আপনি একদিনে হয়ত সর্বোচ্চ পরিশ্রম করলে ৫টা আর্টিকেল আর ৫টা ইমেইল আউটরিচ করতে পারবেন।

    কিন্তু এছাড়াও আরো অনেক কাজ আপনাকে করতে হবে। যেমন: ওয়েবসাইটের রাংক ট্র্যাক করা, ব্যাসিক ব্যাকলিংকগুলোকে ম্যানেজ করা, কনটেন্ট পাবলিশ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

    অতিরিক্ত প্রেশার নিয়ে কাজ করতে গেলে পরে আর কাজই করতে মন চাইবে না। এক সময় দেখবেন সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে ৩ মাস পর আমার এই পোস্টটা এসে খুজেঁ একটা গালি দিয়ে চলে যাবেন। আরও পড়ুন সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান

এবার আপনার কাছে যদি ভালো পরিমানে টাকা থাকে, তাহলে এমন একটা নিশ সিলেক্ট করুন যে নিশের কম্পিটিশন মোটামুটি আছে এবং এই নিশটা মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে।কারন এই নিশে রাংক করতে গেলে আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে; যেহেতু কম্পিটিশন মোটামুটি আছে।একটা উদাহরন দিই, তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। যেমন আপনি যদি একটু চিন্তা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে ডাক্তারে কাছে সাধারনত খুব ভয় নিয়ে যায়।

এটা খুব ভয়ের একটা সৃষ্টি করে মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন করতে পারেন, কিভাবে?ধরুন একজন মানুষের কিছুদিন যাবত তার কিডনীর পাশে কোমরের দিকে ব্যথা করে। আমি গ্যারান্টি সহকারে বলতে পারি এই লোক প্রথমেই ডাক্তারের কাছে চলে যাবে না। এই লোক প্রথমে গুগলে গিয়ে সার্চ করবে যে কিডনীর সমস্যা হলে শরীরে কি কি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।এবার আমি ধরে নিচ্ছি আপনার ওয়েবসাইটে এরকম একটা আর্টিকেল আছে এবং সেটি রাংকেও আছে। এবার ওই ভদ্রলোক যখন গুগল থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকবে, তখন সে আপনার ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই কিডনী রোগের কি কি উপসর্গ থাকতে পারে সেগুলি জেনে যাবে।কিন্তু তাতে কি তার মন ভরবে?কক্ষনো না।আরে ভাই, মানুষ এসব ব্যাপারে মারাত্নক খুতঁখুতেঁ।

ঠিক তখনই দেখবেন আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এর মাঝখানে মাঝখানে যেখানে গুগল অ্যাডসেন্সের এড আছে সেখানেই গুগল হয় এই রিলেটেড অন্য কোনো ব্লগের অ্যাড দেখাবে বা কোনো কিডনী স্পেশালিস্ট এর ওয়েবসাইটের অ্যাড দেখাবে।দেখামাত্র ভদ্রলোক নির্ঘাত ওই অ্যাডে ক্লিক করে ওই ওয়েবসাইটে চলে যাবে এই বিষয়টি নিয়ে আরো বিস্তারিত কিছু জানতে বা হয়ত তিনি আপনারই সাইটের অন্য কোনো কনটেন্ট এর উপর ক্লিক করে সেটি পড়তে পারে।

কিন্তু ভদ্রলোক যাই করুক, দেখবেন দিন শেষে লাভ কিন্তু আপনারই হচ্ছে। হয় গুগলের অ্যাডে ক্লিক করে (CPC) উনি আপনার পকেটে টাকা ঢুকাচ্ছে বা গুগলের অ্যাডটি দেখে (CPV) উনি আপনার পকেটে টাকা ঢুকাচ্ছে।যেভাবেই ঢুকাক, ঢুকাচ্ছে তো।কিন্তু আপনি যদি একই সাইট কোনো কুকুর বিড়ালের স্বাস্থ্য নিয়ে করেন। লাভ নাই। কারন এগুলি নিয়ে মানুষ খুব একটা ভয় পায় না।তাই আপনি যদি ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি বিভিন্ন টপিকের উপর ওয়েবসাইট থাকে এবং সেগুলোকে আপনি গুগলে রাংক করাতে পারেন এসইও করে তাহলে আপনার লালে লাল শাহাজালাল হতে খুব একটা সময় লাগবে না। 😅তবে এবার কয়েকটা নিরাশার কথা বলি। আরও পড়ুন এলেক্সার রেংকিং কি ? এলেক্সার রেংকিং নিয়ে বিস্তারিত টিপস।

উপরের আমি যেই নিশগুলোর কথা বললাম এগুলো সুপার কম্পিটিটিভ নিশ। আবার বলি, হয়ত খেয়াল করেন নি এগুলো সুপার কম্পিটিটিভ নিশ।এগুলোতে রাংক করার জন্য আমার আপনার মতো আরও অনেকে বসে আছে। তাই আপনি যদি ধুরন্ধর মার্কা এসইও না জানেন, কাজ করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনার টিমে এমন কোনো এসইও পাবলিককে রাখতে হবে যিনি ওই “ধুরন্ধর” মার্কা এসইও জানেন। 😁তবে একটা ছোট্ট আশার বানী শুনাই, এমন কোন কোন নিশ আছে যেগুলোতে কম্পিটিশনও কম আবার মানুষ সেগুলোকে ভয়ও পায় সেটা রিসার্চ করারও টেকনিক আছে েএবং উপরে যে নিশের কথা বললাম সেই সমস্ত নিশেরও এমন কিছু কীওয়ার্ড আছে যেগুলি দিয়ে কাজ করে আশা করা যায় আপনি ইনশাল্লাহ্ রাংক করতে পারবেন।তবে সেগুলি এখানে না বলি। বললে আমার চাকরি থাকবে না। 😉আপনি বরং তার থেকে আমাদের মাহদী ভাইয়ের এসইও এর কোর্সটি করতে পারেন। আশা করছি বিষয়গুলো তাহলে আপনার কাছে খুব ক্লিয়ার হয়ে যাবে।আর ফ্রিতে ওই সমস্ত ট্রিকস শেয়ার না করার জন্য ভাই গালি দিয়েন না। হাজার হোক, আমরা বাঙালি তো। ফ্রি জিনিসের মর্ম বুঝি না।যাই হোক, এবার একটা এস্টিমেটিং দেখানোর পালা। পোস্টের শুরুতেই একটা টাইটেল দিয়ে আপনাদেরকে পোস্টের ভিতরে নিয়ে এসে এতো কষ্ট করে পুরো লেখাটি পড়ালাম।একটা ছোট্ট হিসাব দেই। “kidney failure symptoms” – এই কীওয়ার্ডে প্রতিমাসে গুগলে সার্চ পড়ে 60,500টি। তাদের মধ্যে সবাই তো আর আপনার সাইটে যাবে না। কেউ যাবে ১ম রেজাল্টে, কেউ যাবে ৮ম রেজাল্টে। আবার কেউ কেউ আপনার সাইটেও ঢুকবে।আমি ধরে নিলাম যে তার অর্ধেক ঢুকল আপনার ওয়েবসাইটে। মানে 30,250 জন। এখন সবাই তো আর অ্যাডে ক্লিক করবে না।

কেউ কেউ আপনার অন্য আর্টিকেলে যাবে, কেউবা আবার আপনার সাইট থেকে সাথে সাথে বের হয়ে যাবে আবার কেউ কেউ অ্যাডেও ক্লিক করবে।ধরে নিলাম ১০% আপনার অ্যাডে ক্লিক করল; তার মানে 3,025 জন। এই কীওয়ার্ডটির সিপিসি হচ্ছে $0.21।তারমানে সব ঠিকঠাক থাকলে $635.25‬ ডলার আপনার মাসে ইনকাম হওয়ার শুধুমাত্র এই একটি আর্টিকেল থেকে।আপনি নিশ্চয়ই এই একটি মাত্র আর্টিকেল নিয়ে বসে থাকবেন না। গড়ে একেকটা অ্যাডসেন্স সাইটে আপনার ৫০/৬০টা করে আর্টিকেল থাকে।আমি যদি গড়ে প্রতিটি আর্টিকেল থেকে মাসে ১০০ ডলার করেও হিসাব করি তাও তো আপনার মাসে ৫ হাজার ডলার আয় থাকার কথা। আরও পড়ুন কি ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন।

কিন্তু হ্যা ভাইজান, আমার এই পোস্ট আর এই এস্টিমেটিং দেখেই হুট করে ওয়েবসাইট বানিয়ে ঝাপিঁয়ে পড়বেন না হাজার হাজার ডলার ইনকামের আশায়।কাঁচা টাকার গন্ধে পাকা টাকা নষ্ট করবেন না।পোস্টের শুরুতেই আপনাকে বলেছিলাম গুগল আমার শ্বশুর লাগে না যে আমি সাইট বানালেই আর এরকম একটা নিশে কয়েক’শ ভিজিটর আনলেই সে আমাকে বাসায় ডলারের প্যাকেট পাঠিয়ে দিবে।এর জন্য আপনাকে অনেক অনেক পরিশ্রম করতে হবে। সাইট বানানো, কনটেন্ট রাইটিং করা, কনটেন্ট পাবলিশড করা, এসইও করা ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কাজ আছে ভাই বিশ্বাস করেন।এতো সহজ না বিষয়গুলো।তাছাড়া আমি যে হিসাব করেছি সেটি একটি সামান্য এস্টিমেটিং মাত্র। আরও পড়ুন এসইও কি ? এসইও করে কি লাভ ? ক্যারিয়ার হিসেবে এসইও, কিভাবে শিখবেন।

অনেকে আছে যরা গুগলে সার্চ করে কোনো রেজাল্টেই ক্লিক না করে আবার অন্য কিছু লিখে সার্চ দিয়ে দেয়।আবার অনেকে আছে আপনার সাইটে এসে ঢুকবে কিন্তু কোনো অ্যাডেই ক্লিক করবে না (সেক্ষেত্রে অবশ্য আপনি CPV কমিশনটা পাবেন। কিন্তু সেটা খুব একটা বেশি হবে না।)আবার আপনি যদি এমন কীওয়ার্ড সিলেক্ট করেন যেখানে ৭০% মানুষ সার্চই করে দক্ষিন এশিয়া থেকে তাহলেও হবে না। কারন আমাদের এই দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর সিপিসি অনেক কম গুগল অ্যাডসেন্সের কাছে।তাই আপনাকে প্রচুর স্টাডিতে করে অনেক রিসার্চ করে নিশ সিলেক্ট করে কীওয়ার্ড নির্বাচন করে কনটেন্ট দিয়ে তারপর রাংক করতে হবে।এবং রাংক করলেই শেষ না, আপনাকে সেই রাংক ধরেও রাখতে হবে।আশা করি পুরো বিষয়টি বুঝাতে পেরেছি। আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ এতো কষ্ট করে পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য।