আমার মা (১৯২৫-২০১৬ মে ২৮)
মা তোমায় মনে পড়ে প্রতিদিন, কয়েক বার। তুমি হায়াতে থাকতে এত বার মনে পড়ে নাই।
.
আমরা ৮ ভাই -বোন। দুই ভাই আঁতুড় ঘরেই বিদায় নিয়েছে। বড় ভাই ২০০০ সালে বিদায় নিয়েছেন। আমি পঞ্চম। বাবা ইন্তেকাল করার পর আমি মাকে ৩৬ বছর লালন- পালনের দায়িত্ব পালন করেছি। মোটে মাকে পেয়েছি ৫৭ বছর। তাও পেট ভরে নাই।
.
আমার ছোট এক ভাই আঁতুড় ঘরে মারা যাবার কারনে দুই জনের সমান বছর কোলে ছিলাম। প্রায় চার বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খেয়েছি।
.
বড় মাঝারী কৃষি পরিবার। মা খুব ব্যস্ত থাকতেন। বড় দুই বোন কোলে পিঠে করেছেন। বড় এক ভাই ছাড়া সবাই হায়াতে আছেন।
.
ছোট বেলায় একটু নাদুস নুদুস টাইপের ছিলাম। খেলাধুলায় ভাল করতে পারতাম না। তবুও খেলতাম প্রচুর।
.
আমার মনে আছে, খেলতে দূরে গেলে মাঝে মাঝে দৌড় দিয়ে বাড়ি আসতাম এবং মা কি করছে সেটা দেখেই আবার দৌড়ে মাঠে চলে যেতাম। মাঠ বলতে নদীর চর, খাল পাড়, বড় রাস্তা, চৌরাস্তা আর ফসলের ক্ষেত খালি থাকলে সেই ক্ষেত। আউট ডোর খেলা হত ডাংগুলি, বউছি, গোল্লাছুট, বদন (এক প্রকার কাবাডি) এই।
.
কিছুক্ষণ খেলার পরে সেই। তখন বিষয়টিকে আমি বলতাম, পেটের মধ্যে মোচড় দেয়। অর্থাৎ মাকে দেখতে ইচ্ছে করে। দৌড় দিয়ে চলে যাই। বাড়ির উপর উঠে যেখানেই পাই খালি একটা কথা,
– ও মা কি কর?
আবার দৌড়ে মাঠে। বিভিন্ন কারনেই লোকে বলতো পাগল। এটাও ছিল তার একটা।
.
নদীর পাড়ে খেলতে গেলে আমার মহাবিপদ হত। গেলাম তিন সাড়ে তিন বাজে বা চারটা বাজে বা কখনো সকালের দিকে। নদীর পাড় বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে। এখন কি হবে? কিছুক্ষণ খেলার পর পেটে মোচড় দেয়। সবচে ঘনিষ্ট বন্ধু মুক্তাকে (ছেলে) সাথে নিয়ে দৌড়। এই দুই কিমি দৌড়াতে হলেও বাড়ি এসে দেখে যেতাম। মায়ে বলতেন,
-থাইক, আর যাওন নাগবো না। হরান হয়ে গেছ গা। আইছো কেরে, পাগলা?
বলতাম,
-তুমি কি করতাছ এইডা দেখতে আইছি।

মা, তোমাকে দেখি না আজকে পুরা চার বছর মা। অনেক কষ্ট হয় তোমার কথা মনে করে।
.
যেখানেই থাকো মা ভাল থেকো। আল্লাহ পাক যেন দয়া করে আমার সবটুকু পূণ্য তোমাকে দিয়ে দেন আর ভাল রাখেন। আর পৃথিবীর সব মাকেই যেন বিনা হিসাবে জান্নাতবাসী করেন। আমীন।