হ্যাঁ! ঘটনা সত্য।  ৯ম শতকে পার্সিয়ান ঘোড় সওয়ারিদের প্রথম হাই হিল পরতে দেখা যায়। ঘোড়া চড়ার সময় রেকাবের থেকে যেন পা সরে না যায় এবং তারা আরও শক্তভাবে ঘোড়ার উপর বসে তীর ছুঁড়তে পারে এজন্য তারা হাই হিল পরতো।

১৫৯৯ সালে একদল পার্সিয়ান কূটনীতিক অটোমান সাম্রাজকে পরাজিত করার জন্য মিত্র খুঁজতে ইউরোপ ভ্রমণে আসে।

তারা ইউরোপের যেখানেই গেল লোকেরা তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, বেশ-ভূষা সবই খেয়াল করেছিল। বিশেষত তাদের পায়ের হাই হিলের দিকে লোকেদের নজর ছিল বেশী।

লোকেরা খুব উৎসাহের সহিত পার্সিয়ান স্টাইল গ্রহণ করেছিল।

তখন ফ্রান্সের শাসক ছিলেন লুইস চতুর্দশ যিনি আবার একজন ক্ষ্যাপা জুতা সংগ্রহকারী ছিলেন।

তিনি একজন শক্তিশালী শাসক ছিলেন, কিন্তু তখনকার সময়ে মানুষের গড় উচ্চতার (গড় ৫.৫) চেয়েও তার উচ্চতা কম ছিল। তিনি ছিলেন মাত্র ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি।

একজন রাজা কিনা গড়পড়তা মানুষের থেকে খাটো হবে এটা তিনি মেনে নিতে পারতেন না। তাই তিনি তাঁর জুতার হিল ৪ ইঞ্চির মত বাড়িয়ে দিলেন।

১৭০১ সালের একটি চিত্রে তাঁর পায়ে লাল হিলের জুতা দেখতে পাওয়া যায়।

তারপর? পুরুষের পায়ের হিল কি করে মেয়েদের পায়ে গড়ালো?

ইউরোপে হাই হিল জনপ্রিয় হয়ে উঠার পর চিত্র পাল্টাতে শুরু করল। ইউরোপের মেয়েরাও তাদের সাম্যতা দেখানোর উদ্দেশ্যে পুরুষের পোশাক সাথে হাই হিল পরতে শুরু করল।

বাটা শু মিউজিয়াম কিউরেটর এবং “হাইটস অফ ফ্যাশন” লেখিকা এলিজাবেথ সিম্মেলহ্যাক বলেন,

 “মেয়েরা তাদের চুল কেটে সৈন্যদের মতো কাঁধ সমান করে ফেলল। তারা ধূমপান করত, তারা এমন সব টুপি পরতো যেগুলো খুবই পুরুষালী। আর এটাই ছিল মেয়েদের হিল পরার কারণ—তারা তাদের বেশভূষা পুরুষালী করতে চেয়েছিল।”

ধীরে ধীরে, পুরুষদের হিল (পুরু) এবং মেয়েদের হিল (সরু) আলাদা হয়ে গেল এবং হাই হিল ট্রেন্ড এক সময় সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে চলে গেলো।

কিন্তু ১৯ শতকের দিকে এসে পুরুষেরা একেবারেই হিল পরা ছেড়ে দিল।

চিত্র ও তথ্যসূত্র : High Heels Were for Men ; StirrupHigh Heels