আপওয়ার্ক হচ্ছে একটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেখানে সারা পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। এই মূহূর্তে আপওয়ার্কে ৪ লক্ষের উপর কাজ রয়েছে। সাইটটিতে প্রতিটি প্রজেক্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য হিসেবে অথবা প্রতি ঘন্টা কাজের জন্য অর্থ প্রদান করে এবং উভয় প্রকারের কাজ পাওয়া যায়। আপওয়ার্ক মুলত স্বাধীনভাবে চুক্তিবদ্ধ কাজ অফার করে।

২০১৩ সালে ওডেস্ক ও ইল্যান্স মিলে আপওয়ার্ক হয়েছে। আপনি যদি অনলাইনে আয় করতে চান, তাহলে আর আপওয়ার্ক এ কাজ করতে পারেন। তবে এখানে আপনার সাফল্য নির্ভর করবে আপনি কি পরিমান কাজ পেয়ে থাকেন অথবা আপনার বায়ার কতজন আছে। আর সেই বায়ার পাওয়ার জন্য দরকার চমৎকার একটা প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। আপনাদের জন্য কিছু টিপস শেয়ার করছি যার মাধ্যমে আপনি ভাল একটি প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। আরও পড়ুন আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হতে চান ? তাহলে, আল্টিমেট গাইডলাইন গুলো পড়ুন।

অ্যাকাউন্ট খোলার আগে যে বিষয়গুলো জেনে রাখা উচিতঃ

আপনি যদি আপওয়ার্ক বা অন্য যেকোন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে আপনাকে যেকোন একটি কাজে (যেমনঃ ওয়েব ডিজাইন,  ওয়েব ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, এসইও , অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট ইত্যাদি) দক্ষ হতে হবে। সাধারণত সবগুলো ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসেই এই ক্যাটাগরির কাজগুলো পাওয়া যায়। এসব কাজের মধ্যে নুন্যতম যেকোন একটিতে উপযুক্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারলেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।

এরপর আপনি আপনার ভ্যালিড ইমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট খুলুন। এরপর অ্যাকাউন্ট খোলার পর যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে প্রোফাইল ওভারভিউ। তবে এর জন্য কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। যদি ইংরেজিতে ভালো ভাবে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজেই এটি করতে পারবেন। তবে অন্যের কিছু কপি করবেন না। আরও পড়ুন ফ্রিল্যান্সিং/আউটসোর্সিং ট্রেনিং সেন্টারগুলো যে ভাবে প্রতারণা করে।

কিভাবে সাজাবেন?

১। আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্টের ওভারভিউ এমনভাবে সাজাবেন যেন ক্লায়েন্ট আপনার বা আপনার স্কিল সম্পর্কে খুব সহজেই ধারণা পেতে পারে।

২। এমন একটি সুন্দর ছবি প্রোফাইলে যুক্ত করবেন যাতে আপনাকে হাসিখুশি, স্মার্ট এবং প্রফেশনাল লাগে।

৩। আপনার কোনো ভালো কাজের বিবরণ, আপনার কাজের ধরণ/স্টাইল ইত্যাদি যুক্ত করুন। অর্থাৎ আপনার দক্ষতাগুলো সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখুন।

৪। আপওয়ার্কের কোনো এক্সাম টেস্ট স্কোর যদি টপ ১০% বা ২০% না হয় তাহলে এটি আপনার প্রোফাইল শো করবেন না। প্রয়োজনে আবার টেস্ট দিবেন টপ ১০% বা ২০% না হওয়া পর্যন্ত। প্রথম স্থানে থাকতে পারলে তো সবচেয়ে ভালো হয়।

৫। আপনার যদি কোনো এক্সট্রা কাররিকুলার একটিভিটিস থাকে যেমন: স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবক, খেলা বা পেইন্টিং সম্পর্কে উত্সাহী। এইগুলো যুক্ত করতে পারেন এবং প্রমাণ করুন যে আপনি কেবলমাত্র কাজ করার চেয়ে আরও বেশি কিছু করেন এবং আপনার প্রোফাইলে এটা একটি আলাদা মাত্রা নিয়ে আসবে।

৬। আপনি জব ক্যাটাগরিগুলো এমনভাবে সিলেক্ট করুন যেন আপওয়ার্ক এবং ক্লায়েন্ট ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসা করার সাথে সাথে উত্তর দিতে পারেন। এমন কিছু সিলেক্ট করবেন না যে ক্যাটাগরিতে আপনি কাজ জানেন না।

৭। যদি আপনার কোনো সার্টিফিকেশন থাকে যেটা আপওয়ার্ক সাপোর্ট করে তাহলে সেটা অবশ্যই প্রোফাইলের সাথে যুক্ত করে ফেলুন। এই সার্টিফিকেট আপনার প্রোফাইলের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট। আপনার কোর্স সম্পর্কিত কিছু তথ্য ১-২ লাইনের মধ্যে লিখে দিবেন।

৮। আপনার প্রোফাইলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো লিঙ্ক করে দিন। যেমন- ফেসবুক, লিঙ্কডইন, টুইটার, বিহান্স, গুগল প্লাস ইত্যাদি। আরও পড়ুন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এ ব্যার্থ হওয়ার কিছু কারন।

৯। আপনার সম্পর্কে বা আপনার কাজের ধরন সম্পর্কে এক মিনিটের একটি ভিডিও তৈরি করুন। এটা আপনার প্রোফাইলে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত করবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে ভিডিওর কোয়ালিটি, কথা বলার ধরণ ও উচ্চারণের দিকে আলাদাভাবে নজর দিতে হবে।যাদের প্রোফাইল এপ্রুভ হচ্ছে না তারা উল্লিখিত পয়েন্ট অনুযায়ী প্রোফাইল সাজিয়ে তারপর সাবমিট করুন। ইদানীং আমাদের দেশের কেউ কেউ গুজব ছড়িয়েছেন যে, বাংলাদেশ থেকে আপওর্য়াক বন্ধ।

তাই তারা নতুন অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ করছে না। আসলে ব্যাপারটি কিন্তু তা নয়। এজন্য আপনাকে অবশ্যই সঠিক নাম, ইমেইল, অভিজ্ঞতা, পোর্টফলিও আর শিক্ষাগত যোগ্যতা দিতে হবে। প্রোফাইল সম্পুর্ণ (১০০%) করতে হবে। তবেই আপনি জবের জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবেন।আর যারা নতুন কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না, তারা উল্লিখিত পয়েন্ট অনুযায়ী প্রোফাইলের কোথায় ঘাটতি আছে সেগুলো খুঁজে বের করুন। ফ্রিল্যান্সিং সর্ম্পকে আরো জানতে forums.com.bd সাথেই থাকুন।